অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
তিনি ঢাকা-৯ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, গ্যাস- পানি- রাস্তা সমস্যা সমাধান, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে প্রগতি আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভোটারদের কাছে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
তাসনিম জারা বলেন, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার: ঢাকা-৯-এর অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। এবার আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিব।
তিনি বলেন, তিনি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার ইশতেহার কোনো ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। এটি আপনার সাথে আমার চুক্তি। আমি কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছি।
তাসনিম জারা আরও বলেন, আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, বিপদে পাশে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না।
তাসনিম জারার ইশতেহার: সমস্যা ও সমাধান
১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই
তাঁর দাবি, মাসে গ্যাস বিল দিচ্ছেন, কিন্তু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ব্যবসায়ীরা জনগণকে দুর্ভোগে ফেলছেন। এছাড়া জলাবদ্ধতা, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও ভাঙা রাস্তা এলাকার মানুষকে অতিষ্ঠ করছে।
সমাধান হিসেবে তিনি বলেন—
“সেবা না দিলে বিল নেই” নীতিতে খসড়া আইন প্রস্তাব করবেন।
গ্যাস সরবরাহ ব্যর্থ হলে ন্যায্য মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে বাধ্য করবেন।
ড্রেনেজ আধুনিকায়ন ও বর্ষার আগে খাল-নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করবেন।
আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা চালু করবেন ও পার্ক-গাছপালা উন্নত করবেন।
রাস্তা কাটার কাজের ‘ডেডলাইন’ থাকবেই; সময়মতো না হলে ঠিকাদারকে জরিমানা দেবেন।
২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর নয়
ঢাকা-৯ এলাকায় ৭-৮ লাখ মানুষের জন্য বড় হাসপাতাল মাত্র একটি—মুগদা মেডিক্যাল। তিনি বলেন, ৫০০ বেডের হাসপাতালটি রোগীর চাপ নিতে পারছে না। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নৈতিক দায়বোধহীনতা দেখা যায়।
সমাধান হিসেবে তিনি বলেন—
মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করবেন।
কমিউনিটি ক্লিনিককে ‘মিনি-হাসপাতাল’ হিসেবে আধুনিকায়ন করবেন।
সারা বছর ডেঙ্গু টাস্কফোর্স গঠন করবেন।
নারী স্বাস্থ্য সেবা ও নারী-বান্ধব টয়লেট, ব্রেস্টফিডিং সুবিধা নিশ্চিত করবেন।
৩. নিরাপত্তা: মাদক সিন্ডিকেট সরিয়ে নিরাপদ সড়ক
তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর খিলগাঁও-বাসাবো এলাকা দিয়ে নারী চলাচল করতে ভয় পান। রাস্তাঘাট মাদক সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে, আর সড়ক বাতি নষ্ট থাকায় অপরাধ বাড়ছে।
সমাধান হিসেবে তিনি বলেন—
স্কুল, কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকার রাস্তায় সিসি ক্যামেরা ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করবেন।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
নারীবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করতে বাসে সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা করবেন।
৪. শিক্ষা: পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক
তাঁর দাবি, অপ্রতিষ্ঠিত কারিকুলাম ও ভর্তিতে দুর্নীতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।
সমাধান হিসেবে তিনি বলেন—
স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না।
স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, ভাষা ক্লাব ও কোডিং শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও এআই শিক্ষায় গুরুত্ব দেবেন।
অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম গঠন করে বুলিং ও হয়রানি বন্ধ করবেন।
৫. অর্থনীতি ও জীবিকা: সুযোগ কেন কেবল ধনীদের?
তাঁর দাবি, তরুণদের মেধা আছে কিন্তু পুঁজি নেই। বড় শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ হলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যর্থ হয়।
সমাধান হিসেবে তিনি বলেন—
‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ডের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক পুঁজি দেবেন।
কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করবেন।
গৃহকর্মী ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন বাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করবেন।
৬. এমপির জবাবদিহিতা: আমি ‘অতিথি পাখি’ নই
তিনি বলেন, ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন, ভোটের পরে দেখা মেলে না। এমপি থাকেন গুলশানে বা সংসদে, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ে।
সমাধান হিসেবে তিনি বলেন—
নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে স্থায়ী কার্যালয় চালু করবেন।
ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে অভিযোগের আপডেট দেখানোর ব্যবস্থা করবেন।
সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার জন্য কোনো ‘প্রটোকল’ লাগবে না।
রিপোটার্স ২৪/এসসি