ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বাসিলান প্রদেশের উপকূলে ৩৪০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে এখনও কমপক্ষে ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ড।
সোমবার (স্থানীয় সময়) ভোরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ফেরিটিতে ছিলেন ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রু সদস্য। উদ্ধার অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ড বাহিনীর ডুবুরিরা এ পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।
বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাথিং নানোহ এবং ফিলিপাইন কোস্টগার্ড বাহিনীর বাসিলান শাখা সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ‘ত্রিশা কেরস্টিন ৩’ নামের ফেরিটি সোমবার ভোরে বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে পার্শ্ববর্তী মিন্দানাও প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞাত কারণে ফেরিটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। কোস্টগার্ড ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের আগে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এখন যাত্রীদের উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান।
দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ এএফপিকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার কার্যক্রমে জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় মিন্দানাও প্রাদেশিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব নিয়েছে মিন্দানাও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়। অতিরিক্ত যাত্রী, বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।
বর্তমানে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্র: এএফপি, আরটি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম