স্পোর্টস ডেস্ক: এক দশক আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অবিশ্বাস্য শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলে রূপকথা লিখেছিল লেস্টার সিটি। কিন্তু সেই রূপকথারই যেন করুণ সমাপ্তি হলো এবার। হাল সিটির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ডিভিশন ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে তৃতীয় ডিভিশনে অবনমিত হলো বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটি।
চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৪ ম্যাচ শেষে লেস্টারের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪২। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও আর শীর্ষ দুই ডিভিশনে টিকে থাকার সুযোগ নেই। ফলে ২০২৪-২৫ মৌসুমে দ্বিতীয় ডিভিশনে নেমে যাওয়া ক্লাবটি এক মৌসুমের মধ্যেই আরও এক ধাপ নিচে নেমে গেল। সাম্প্রতিক সময়ে এত দ্রুত বড় পতন খুব কম ক্লাবেরই দেখা গেছে।
হাল সিটির বিপক্ষে ম্যাচে লেস্টার শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট বাঁচালেও অবনমন এড়াতে পারেনি। পরে হামজা চৌধুরীকে মাঠে নামানো হলেও তাতে ফল বদলায়নি। মাঠে থাকা সময়টুকুতেও দলকে জয়ের পথে ফেরাতে পারেননি তিনি। ফলে এক সময়ের ইংল্যান্ড কাঁপানো ক্লাবটির জন্য দিনটি হয়ে থাকল আরও এক হতাশার।
লেস্টারের এই পতনের পেছনে শুধু সাম্প্রতিক ব্যর্থতাই নয়, দীর্ঘমেয়াদি সংকটও বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার পর ২০১৫-১৬ মৌসুমে ক্লদিও রেনেরির দলের সেই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ে ফুটবলবিশ্ব তাকিয়ে ছিল বিস্ময়ে। কাসপার স্কিমিসেল, বেন চিলওয়েল, এনগোলো কন্তে, রিয়াদ মাহরেজ ও জেমি ভার্ডির মতো তারকারা তখন লেস্টারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ এবং কনফারেন্স লিগেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপস্থিতি ছিল ক্লাবটির। ইউরোপিয়ান মঞ্চে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্তও উঠেছিল তারা। কিন্তু সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি লেস্টার। ২০১৮ সালে চেয়ারম্যান ভিচাই শ্রীবদ্ধনপ্রভার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু ক্লাবটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। এরপর আসে কোভিড-পরবর্তী আর্থিক সংকট, বিনিয়োগে চাপ এবং নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় কেনার সক্ষমতা কমে যাওয়া।
এর মধ্যেও ২০২০-২১ মৌসুমে এফএ কাপ জিতে সান্ত্বনার হাসি পেয়েছিল লেস্টার। তবে সেটি ছিল বড় ধসের আগে শেষ উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০২২-২৩ মৌসুমে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, কোচ বদল এবং অস্থিরতার কারণে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন ঘটে। পরের মৌসুমে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার শীর্ষ লিগে ফেরে তারা। কিন্তু সেই ফেরাও স্থায়ী হয়নি। এক বছর না যেতেই ফের দ্বিতীয় ডিভিশনে নামতে হয় দলটিকে, আর এবার সেখান থেকেও অবনমন ঠেকানো গেল না।
ক্লাব পরিচালনায় ভুল সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক চাপ, ঋণের বোঝা, ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা ও কৌশলগত দুর্বলতা—সব মিলিয়ে এক দশকে এক সময়ের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি ধীরে ধীরে পতনের পথে নেমে যায়। যে দল একসময় প্রিমিয়ার লিগের সেরা মঞ্চ দখল করে ফুটবলে নতুন গল্প লিখেছিল, আজ তারাই দাঁড়িয়ে তৃতীয় ডিভিশনের দরজায়। লেস্টারের এই অবনমন তাই শুধু একটি ক্লাবের ব্যর্থতা নয়, ফুটবলের আধুনিক যুগের এক বড় বিস্ময়কর পতনের গল্পও।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি