| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গবেষকদের ধারণা

পৃথিবীর নিয়মেই হয়তো প্রাণের সঞ্চারের পথে বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ ইং | ১০:০৮:৫৮:পূর্বাহ্ন  |  ৬৮৯৭১৮ বার পঠিত
পৃথিবীর নিয়মেই হয়তো প্রাণের সঞ্চারের পথে বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের অনুসন্ধানে আবারও আলোচনায় এসেছে বৃহস্পতির বরফাচ্ছাদিত উপগ্রহ ইউরোপা। ইউরোপার পুরু বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা সুবিশাল মহাসমুদ্রে প্রাণ টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান পৌঁছাতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা ভিনগ্রহে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।

বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপা বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। উপগ্রহটির ফাটলধরা বরফের স্তরের নিচে একটি লবণাক্ত মহাসাগর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মোট পানির চেয়েও দ্বিগুণ পানি থাকতে পারে। এই বিপুল জলভাণ্ডারই ইউরোপাকে সৌরজগতের অন্যতম সম্ভাবনাময় ‘প্রাণের আবাসস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সূর্যালোকহীন সমুদ্রে প্রাণ টিকবে কীভাবে? তবে ইউরোপার মহাসাগরের সঙ্গে পৃথিবীর সমুদ্রের একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। সেখানে সূর্যের আলো কিংবা অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে পৃথিবীর মতো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য বা শক্তি উৎপাদনের সুযোগ নেই। এমন পরিবেশে প্রাণের অস্তিত্ব বজায় রাখতে হলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিনের বড় প্রশ্ন ছিল বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণের কারণে ইউরোপার পৃষ্ঠে যে অক্সিডেন্ট বা প্রাণরক্ষাকারী রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়, তা কীভাবে কয়েক দশ কিলোমিটার পুরু বরফের স্তর পেরিয়ে নিচের মহাসাগরে পৌঁছায়?

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন গবেষণা বলছে, ইউরোপার ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর। গবেষকদের মতে, ইউরোপার পৃষ্ঠের কিছু বরফ ধীরে ধীরে নিচের দিকে তলিয়ে যায়। এই ধীর কিন্তু ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপরিভাগে তৈরি হওয়া অক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বরফ ভেদ করে মহাসমুদ্রে পৌঁছাতে পারে।

গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক এবং বর্তমানে ভার্জিনিয়া টেক-এর পোস্টডক্টরাল গবেষক অস্টিন গ্রিন এক বিবৃতিতে বলেন,

প্ল্যানেটারি সায়েন্সের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক তত্ত্ব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা এই ধারণায় পৌঁছেছি। সবচেয়ে আশার কথা হলো এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপায় প্রাণের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বড় প্রশ্নের সমাধান দিচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াটিকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘লিথোস্ফিয়ারিক ফাউন্ডিং’। পৃথিবীতে যেভাবে ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশ ধীরে ধীরে ম্যান্টলের দিকে তলিয়ে যায়, ইউরোপাতেও অনেকটা একই রকম ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার নিচে এই ধরনের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রমাণ পেয়েছিলেন গবেষকরা।

ইউরোপার ক্ষেত্রে কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরের ওপর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সিমুলেশন চালান। ফলাফলে দেখা যায়, ছয়টি ভিন্ন পরিস্থিতির প্রতিটিতেই পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা উপাদানগুলো শেষ পর্যন্ত বরফের একদম নিচে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে।

মাত্র ৩০ হাজার বছরেই পৌঁছাতে পারে জীবনদায়ী উপাদান গবেষণায় উঠে এসেছে, ইউরোপার কিছু অঞ্চলে বরফের স্তর তুলনামূলক দুর্বল হলে মাত্র ৩০ হাজার বছরের মধ্যেই উপরিভাগের রাসায়নিক উপাদান মহাসমুদ্রে পৌঁছাতে পারে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে সময় লাগে লাখ লাখ বছর, তবুও মহাজাগতিক সময়ের হিসেবে এটি অত্যন্ত দ্রুত।

গবেষকরা জানান, লবণের পরিমাণ যাই হোক না কেন, বরফ যদি কিছুটা ভঙ্গুর হয়, তবে প্রায় সব পরিস্থিতিতেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে। এতে ইউরোপার গভীর সমুদ্রে প্রাণের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক শক্তির যোগান নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

নাসার ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশনের অপেক্ষা এই তত্ত্বের বাস্তব প্রমাণ পেতে বিজ্ঞানীদের ভরসা নাসার ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশন। ২০২৪ সালে উৎক্ষেপণ করা এই মহাকাশযানটি ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে। চার বছর মেয়াদি মিশনে যানটি ইউরোপার খুব কাছ দিয়ে প্রায় ৫০ বার উড়ে যাবে। এই অভিযানে ইউরোপার বরফের গভীরতা, নিচের মহাসমুদ্রের গঠন এবং সেখানে প্রাণের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে কি না তা আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

উল্লেখ্য, এই গবেষণাপত্রটি চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: স্পেসডটকম


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪