| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অভিবাসন সংস্থার হাতে মার্কিন নাগরিককে গুলি,সাফাই গাইছে ট্রাম্প প্রশাসন

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ ইং | ১৪:২২:২৬:অপরাহ্ন  |  ৬৮৯১৪৭ বার পঠিত
অভিবাসন সংস্থার হাতে মার্কিন নাগরিককে গুলি,সাফাই গাইছে ট্রাম্প প্রশাসন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংস্থার হাতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সাফাই গাইছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক চিত্র উঠে এসেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল এজেন্টদের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।

শনিবার নিহত ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেটির স্মরণে তীব্র শীত ও তুষারপাতের মধ্যেও শহরের মানুষ ফুল ও মোমবাতি রেখে শ্রদ্ধা জানান। একই সময় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, প্রেটি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছিলেন, ফলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন তারা। কিন্তু পথচারীদের ধারণ করা ভিডিও সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না।

চলতি মাসে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে নিহত হওয়া প্রেটি দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নজিরবিহীনভাবে হাজার হাজার সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করেছেন অভিবাসন বিরোধী অভিযানে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারও ট্রাম্পকে রাজ্য থেকে ফেডারেল এজেন্ট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি ফেডারেল আদালতে আবেদন করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে—এই অভিযান সংবিধানবিরোধী সীমা লঙ্ঘন করছে।

এদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনো সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই ঘটনার প্রকৃত ভুক্তভোগী সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তারাই।

তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমসহ প্রশাসনের এই বক্তব্য স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কংগ্রেস সদস্যদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে। তাদের দাবি, ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে প্রেটির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, শুধু একটি মোবাইল ফোন ছিল।

ফোন হাতে, বন্দুক নয়

রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটি তার হাতে থাকা ফোন দিয়ে ছবি তুলছিলেন এবং ফেডারেল এজেন্টদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাওয়া দুই নারীকে সহায়তা করার চেষ্টা করছিলেন। এক পর্যায়ে এক এজেন্ট তাকে পিপার স্প্রে করেন। এরপর একাধিক এজেন্ট তাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একজন এজেন্ট প্রেটির কোমরের কাছ থেকে একটি পিস্তল সরিয়ে নিয়ে দূরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর আরেক এজেন্ট প্রেটির পিঠ লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।

আইসিই–এর সাবেক কর্মকর্তা ড্যারিয়াস রিভস রয়টার্সকে বলেন, ঘটনাস্থলে ফেডারেল এজেন্টদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। “এই দলটির মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে,” বলেন তিনি।

মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রেটির জনসমক্ষে বৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি ছিল, যা ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মিনিয়াপোলিসের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা সিবিএসকে বলেন, “ভিডিওই সব বলে দেয়।” তিনি জানান, প্রেটি কোনো অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি আরেক মার্কিন নাগরিক রেনে গুডকেও মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টরা গুলি করে হত্যা করেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, গুড তার গাড়ি দিয়ে এক এজেন্টকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সম্ভবত এজেন্টকে এড়িয়ে গাড়ি সরানোর চেষ্টা করছিলেন।

গুড হত্যাকাণ্ডে মিনেসোটা আইন ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছিল রাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ। কিন্তু মার্কিন বিচার বিভাগ সেই তদন্তে সহযোগিতা প্রত্যাহার করে নেয়। এর প্রতিবাদে অন্তত এক ডজন ফেডারেল কৌঁসুলি পদত্যাগ করেন।

প্রেটি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন না করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নিষেধ করে শনিবার রাতে একটি অস্থায়ী আদেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক।

এদিকে টার্গেট, কারগিল ও বেস্ট বাইসহ মিনেসোটার বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা যৌথ বিবৃতিতে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন পৃথক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। ক্লিনটন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন, আর ওবামা বলেছেন “আমেরিকান মূল্যবোধ হুমকির মুখে।”

অ্যালেক্স প্রেটি মিনেসোটার একটি ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালে আইসিইউ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রোববার তার সহকর্মীসহ দুই শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

একজন সহকর্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সে খুব যত্নশীল ও দয়ালু মানুষ ছিল। এই ঘটনার কোনো মানে হয় না।অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করে যাচ্ছেন,এসব অভিযান অপরাধ দমন ও অভিবাসন আইন কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয়। রয়টার্স 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪