ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এখন ভারত মহাসাগরের নিকটে অবস্থান করছে। এই জাহাজ দ্রুত কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সক্ষম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বাধীন এলাকায় অবস্থান করছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ইরানে সামরিক অভিযান না চালানোর জন্য ওয়াশিংটনকে অনুরোধ জানাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫,৫২০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও প্রায় ১৭ হাজার মৃত্যুর তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াধীন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে তিনি গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
ইরানও এই পরিস্থিতিতে তৎপর। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের ওপর যুদ্ধবিমানের ছবি আঁকা একটি বড় দেয়ালচিত্র উন্মোচন করা হয়েছে। জুমার নামাজের সময় ইরানের ধর্মীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে শক্ত জবাব দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানি সেনা কর্মকর্তা আলী আব্দুল্লাহি বলেছেন,ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।এছাড়া ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীও যুদ্ধের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে, যা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই উত্তেজনা বিশ্বসাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম