সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশেই মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানায়, সরকারে-সরকারে (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি) যৌথভাবে বাংলাদেশে ড্রোন বা ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন করবে। একই সঙ্গে এ চুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
আইএসপিআর আরও জানায়, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে একটি আধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় ইউএভি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিমান বাহিনী মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়ন সক্ষম, কম সহনশীলতার বিভিন্ন ধরনের ইউএভি এবং ‘ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ (ভিটিওএল) সক্ষম ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। একই প্রকল্পের আওতায় বিমান বাহিনীর নিজস্ব ইউএভিও উৎপাদিত হবে।
এই ড্রোনগুলো সামরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
সংস্থাটি বলছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় ইউএভি উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষ মহাকাশ কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই উদ্যোগ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি