আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন অ্যান্ড সলিডারিটি পার্টি (USDP) প্রায় সকল আসনে বিজয়ী হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে খবর পাওয়া গেছে, নির্বাচনের ফলাফলে USDP নিম্নপক্ষ পিয়িথু হ্লুট্টোতে ২৬৩ আসনের মধ্যে ২৩২টি ও ঊর্ধ্বপক্ষ অ্যামোথা হ্লুট্টোতে ১৫৭ ঘোষিত আসনের মধ্যে ১০৯টি জয় করেছে।
২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং নাগরিক উৎখাতের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চার বছর ধরে চলা সংঘাত ও দমন-পীড়নের কারণে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন আউং হ্লেইং বলেছেন, রাজনৈতিক দল বা সংস্থার যে কোনো পরিবর্তনের পরেও তাতমাদ (সেনাবাহিনী) দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে। তিনি ভোটকে স্থিতিশীলতার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভোটকে প্রক্রিয়াগতভাবে অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ নয় বলে উল্লেখ করেছেন। আসিয়ান (ASEAN) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোও এই নির্বাচনের সমর্থন দেয়নি। বিশেষ করে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (NLD) সহ কয়েকটি দল নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল।
এই নির্বাচনে ভোটের হার প্রায় ৫৫ শতাংশ, যা পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় কম। ভোট স্থগিত বা বাতিল হয়েছে সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে, যেখানে সেনা ও স্থানীয় প্রতিরোধ দল বা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছিল।
USDP-এর নেতৃত্বে আছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেলরা। এটি মূলত সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দেওয়ার উদ্দেশে গঠিত। আগামী মার্চে সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এপ্রিল থেকে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে।
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবং সেনাবাহিনীর প্রভাব আগামী প্রজন্মের রাজনীতিতেও ধরে থাকবে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি