সিনিয়র রিপোর্টার: দেশের বেসরকারি শিক্ষাখাতের এক হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান নতুন করে এমপিওভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে সরকারের বার্ষিক বাজেটে অতিরিক্ত প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্তির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের এমপিওভুক্তির জন্য মোট ৩,৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১,৭১৯টি প্রতিষ্ঠান যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—
৪৭১টি নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়
৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়
১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ
৭৮টি দাখিল মাদ্রাসা
২০২টি আলিম মাদ্রাসা
৩৫টি ফাজিল মাদ্রাসা
৭৮টি স্নাতক (পাস) কলেজ
২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজ
৩৫টি স্নাতকোত্তর কলেজ
তবে এবারের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াকে ঘিরে কয়েক শ কোটি টাকার অনিয়ম ও ঘুসের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কোথাও শিক্ষকপ্রতি ১০ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার কথাও শোনা গেছে। শিক্ষকের সংখ্যা বেশি এমন প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঘুসের পরিমাণও বেশি ছিল।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সমকালকে বলেন, অনেক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম, পাঠদান কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। তবু আর্থিক বিনিময়ে তারা যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ১৪ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। মাত্র আট কর্মদিবসের মধ্যে ৩,৬১৫টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে। মাউশির কর্মকর্তা বলেন, দিনে গড়ে ৪৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা প্রায় অসম্ভব, যা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের শঙ্কা উত্থাপন করে।
এবারের এমপিওভুক্তি চূড়ান্ত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ৬৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেড়ে যাবে। ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে: ৪৭১টি নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ১৮৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা,১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ: ১২৭ কোটি ১১ লাখ টাকা,২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজ: ১২৫ কোটি টাকা,৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা,১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়: ১০২ কোটি ২২ লাখ টাকা,২৩২টি স্নাতক (পাস) কলেজ: ৩৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে এবং কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র:সমকাল
রিপোর্টার্স২৪/এসসি