| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে কার পাল্লা ভারী?

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৭, ২০২৬ ইং | ২০:১৭:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৬৬৮৮০১ বার পঠিত
বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে কার পাল্লা ভারী?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

শাহানুজ্জামান টিটু

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী তাদের পৃথক নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র হলেও এবারের ইশতেহারে দল দুটির দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শিক অবস্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনে কিছু মৌলিক পার্থক্য ও মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহারের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরছি:

রাষ্ট্র দর্শন ও আদর্শিক অবস্থান

বিএনপি: তাদের মূল দর্শন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, আধুনিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলছে, যেখানে ‘রেইনবো নেশন’ বা সব মত ও পথের মানুষের ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত: তাদের মূল লক্ষ্য একটি ‘ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ’। তাদের ইশতেহারে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন স্পষ্ট এবং তারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নৈতিকতাভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

ক্ষমতার ভারসাম্য ও সংসদীয় সংস্কার

বিএনপি: তারা সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। যেমন পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, উচ্চকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য।

জামায়াত: জামায়াত গুরুত্ব দিয়েছে 'আনুপাতিক নির্বাচন' (Proportional Representation) পদ্ধতির ওপর। অর্থাৎ, দলগুলো যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে তাদের আসন সংখ্যাও সেই অনুপাতে হবে। এছাড়া তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার পক্ষে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান

বিএনপি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য 'বেকার ভাতা' এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জামায়াত: তারা "সুদমুক্ত অর্থনীতি" এবং কৃষি বিপ্লবের ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তার কথা বলেছে।

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু ইস্যু

বিএনপি: নারীদের ক্ষমতায়নে 'ফ্যামিলি কার্ড' (নারীর নামে) এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও কঠোর আইনি সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের স্লোগান ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।

জামায়াত: তারা ইসলামি শরিয়াহর আলোকে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলেছে। তবে নারীদের কাজের সময় কিছুটা কমিয়ে পরিবারের সময় দেওয়ার সুযোগ করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কও চলছে। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে তারা নাগরিক অধিকারের সমতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি

বিএনপি: প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিশেষ করে ভারতের সাথে "পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার" ভিত্তিতে সম্পর্ক রক্ষার কথা বলেছে। তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের 'প্রভু' হবে না, বন্ধু হবে।

জামায়াত: তারা মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও জাপানের সাথে গঠনমূলক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপির ইশতেহারটি অনেক বেশি লিবারেল এবং কাঠামোগত সংস্কারমুখী, যা তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের আকর্ষণ করতে চায়। অন্যদিকে, জামায়াতের ইশতেহারটি অনেক বেশি নৈতিকতা ও ইসলামি মূল্যবোধনির্ভর, যা তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে তৈরি।

দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অমিল দেখা গেছে নারীর কর্মঘণ্টা এবং নির্বাচন পদ্ধতি (আনুপাতিক বনাম বর্তমান পদ্ধতি) নিয়ে। তবে দুর্নীতি দমন এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নে উভয় দলই অভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪