গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এর কাশিমপুর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই কয়েক ফুট দেবে গেছে। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের এমন পরিণতিতে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং যথাযথ তদারকির ঘাটতির কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার একটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। পরে সেটি ভেঙে কয়েক ফুট নিচে দেবে যায়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে, যা পুরো সড়ককে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয়রা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দ্রুতগতিতে ঢালাই কাজ শেষ করা হয়। ঢালাইয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় ফাটল দেখা দেয়। এরপরই একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নকাজ দুটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্সিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল)।
প্যাকেজ-১২ এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায়।
প্যাকেজ-৫ এর আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায়।
দুটি প্যাকেজ মিলিয়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার প্রকল্পে ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, প্রায় ১.৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কথা ছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত মান ও পরিমাণ অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি।
কাশিমপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর রাস্তা নির্মাণ হলেও উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ায় আমরা হতাশ। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে।
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীর পাড়ঘেঁষা এলাকায় হওয়ায় প্রাকৃতিক কারণেও এমনটি হতে পারে। পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, সড়ক ধসের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রধান হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক থাকবেন। তদন্তে গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে