বাগেরহাট প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাগেরহাট ও খুলনার একাংশকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা আলোচনা তীব্র হয়েছে। সর্বস্তরের রাজনৈতিক কর্মী ও স্থানীয় জনমানুষের মধ্যে চলমান এই আলোচনা কোন নেত্রীকে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেই নিয়েই ঘুরছে। এর পেছনে অন্যতম ক্ষমতাসীন দলের দলের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের প্রেক্ষাপটও রয়েছে যেখানে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেত্রীদের নাম উঠে এসেছে, যদিও বাগেরহাট-খুলনার সাংগঠনিক ভিত্তিক স্থানীয় নেত্রীদের আলোচনায় তাদের অবস্থান নিয়েই জোর বেশি হচ্ছে।
জেলা জুড়ে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শাহিদা আক্তার — জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা শাখার সভাপতি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এই অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী আসনে শাহিদাকে চায় বলেই স্থানীয় কর্মী ও জন সাধারণের মধ্যে কথাবার্তা বিশেষভাবে শোনা যাচ্ছে। বিএনপির ত্যাগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেখানোর মতো গুণাবলীর কারণে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ভালোভাবে পরিচিত। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা শাহিদা দীর্ঘদিন ধরে দলের মহিলা ও বিভিন্ন স্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০০৯ সালে কচুয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা ও নারী অধিকারের মতো ক্ষেত্রেও তাঁর কর্মজীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।
জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আক্তার ইভা বলেন, শাহিদা আক্তার ছাত্রজীবন থেকেই দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন ও ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি দলের প্রতি নিষ্ঠা ও সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদানের কারণে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
একইভাবে বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আক্তার ও স্থানীয় বিএনপি নেতা কামাল হোসেন এমডও শাহিদার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও কর্মী-সমর্থকদের প্রতি সহানুভূতির ওপর জোর দিয়ে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শাহিদা সাধারণ মানুষের মাঝে সমর্থন জোগাতে সক্ষম ও দলের জন্য পরীক্ষিত একজন কর্মী। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, তার মতো একজন দক্ষ রাজনীতিককে সংসদে উপস্থাপিত করলে শুধু দল নয়, বাগেরহাট-খুলনা অঞ্চলও উপকৃত হবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্ষমতাসীন দল বিভিন্ন আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা পরিবেশন করেছে যেখানে বিভিন্ন নারী নেত্রীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দলীয় স্তরে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে আগ্রহ ও দাবির প্রসঙ্গও নতুন করে যোগ হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে স্থানীয় নেত্রীদের দাবির পিছনে শুধু রাজনৈতিক যোগ্যতা নয়, তৃণমূল স্তরের শক্তি, জনসমর্থন ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমও ভূমিকা রাখছে। দলীয় সিদ্ধান্ত কবে ও কেমনভাবে আসে, তা এখন স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন আলোচনা ও রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে।