রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাসের রোজা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করেন মির্জাখীল দরবার শরিফ–এর অনুসারীরা।
প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরব–এর সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে সিয়াম সাধনায় অংশ নিচ্ছেন তারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামে এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত চর্চা হলেও একই দেশে ভিন্ন দিনে রোজা শুরুর বিষয়টি প্রতিবছরই জনমনে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দেয়।
ঐতিহ্যের সূত্রপাত
দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে রোজা ও ঈদ পালনের ফতোয়া প্রদান করেন।
সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার শরিফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই জানান, তারা হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন এবং আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনায় রোজা শুরু করেন। “এটি আমাদের শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন। আমরা কারও বিরোধিতা করছি না,” বলেন তিনি।
যেসব এলাকায় রোজা শুরু
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ বুধবার থেকেই রোজা পালন করছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বহুদিনের চর্চা হলেও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার আগেই রোজা শুরু হওয়ায় প্রতিবছরই এটি জনআলোচনায় আসে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে