| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৯, ২০২৬ ইং | ০৪:৩৩:৪৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৩২ বার পঠিত
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

সমাবেশে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তারা আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর বিন মুহিত বলেন, একজন শিক্ষক যদি তার অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করেন, তাহলে তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করেন তিনি।

সম্প্রতি এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অশালীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. রেজাউল ইসলাম দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, মোবাইল ফোন হারানোর দাবি করা সময়ের পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে একাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে গবেষণাসংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টও শেয়ার করেছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪