স্পোর্টস ডেস্ক: দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাল বাংলাদেশ। প্রায় ৯৯ দিন পর মাঠে নেমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে টাইগাররা। আর সেই জয়ের নায়ক তরুণ পেসার নাহিদ রানা। আগুনঝরা বোলিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন তিনি।
বুধবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করতে বড় ভূমিকা রাখেন নাহিদ। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই পেসার ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।
ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা ধীরস্থিরভাবে খেললেও আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদ রানা। প্রথম ধাক্কা দেন সাহিবজাদা ফারহানকে (২৭) ফিরিয়ে দিয়ে। এরপর একে একে শামিল হুসেইন (৪), মাআজ সাদাকাত (১৮), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১০) এবং সালমান আগাকে (৫) আউট করে পাকিস্তানের টপঅর্ডার পুরোপুরি ভেঙে দেন তিনি।
নাহিদের এই পাঁচটি উইকেটই ছিল পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এটি একটি বিরল কীর্তি। প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি বোলার একটি ইনিংসে প্রতিপক্ষ দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে আউট করার নজির গড়লেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ছিল নাহিদ রানার ষষ্ঠ ম্যাচ। এর আগে এই ফরম্যাটে বড় সাফল্য না পেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে এই পাঁচ উইকেট তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং এখন নাহিদ রানার। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে পঞ্চম সেরা বোলিং। তালিকার শীর্ষে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, যিনি ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।
গতির জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা নাহিদ রানা জানিয়েছেন, তিনি শুধু গতির ওপর নির্ভর করতে চান না। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে হলে বোলিং দক্ষতা ও কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের স্কিল উন্নত করতেই তিনি বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ওয়ানডে দলে নিজের অবস্থান শক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন নাহিদ। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ পেসারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি