ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে একের পর এক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট স্থগিত বা বাতিল করা হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো যেমন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, তেমনি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ফর্মুলা ওয়ানের বাহরাইন ও সৌদি আরব গ্র্যান্ড প্রিক্স। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই দুই গ্র্যান্ড প্রিক্স বাতিল করা হয়েছে।
মোটোজিপির কাতার গ্র্যান্ড প্রিক্সও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী নভেম্বরে। এর ফলে পর্তুগিজ গ্র্যান্ড প্রিক্স ও ভ্যালেন্সিয়া ফাইনালের সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে আয়োজকদের।
কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল আলোচিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করলেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরানের এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ‘সমীচীন নয়’।
এদিকে ২০২৬ সালের শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ স্থগিত করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ট্রানজিট হাব দুবাইসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রীড়াবিদরা। ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু দুবাই বিমানবন্দরে কয়েক দিন আটকে থাকার পর অল ইংল্যান্ড ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে দেশে ফিরে গেছেন।
টেনিস তারকা দানিল মেদভেদেভ ও আন্দ্রে রুবলেভও দুবাই থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার পথে বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন। একই কারণে মার্কিন হকি দল মিশরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় দেশে ‘যুদ্ধাপরাধী’ তকমা পাওয়ার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলার। মানবিক বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া তাদের ভিসা দিলেও তাদের মধ্যে তিনজন শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে গেছেন।
বর্তমানে ইরান ও বাহরাইনে সব ধরনের ঘরোয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। কাতার লিগ পুনরায় শুরু হলেও যাতায়াত সমস্যার কারণে আল সাদের কোচ রবার্তো মানচিনি এখনও কাতারে ফিরতে পারেননি।
এদিকে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার নির্ধারিত সিরিজও স্থগিত করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব