বাগেরহাট প্রতিনিধি: জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর একের পর এক প্রতিকূলতার মধ্যেও হার না মানা বাগেরহাট সদর উপজেলার উত্তর রাড়ীপাড়া গ্রামের সংগ্রামী নারী রুমিছা বেগম (৫৫)। পাঁচ বছরের নাতিকে বুকে আগলে প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে জীবিকার চাকা ঘোরানো এই নারীর করুণ কিন্তু অনুপ্রেরণাময় গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বাগেরহাট জেলা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (মার্চ) রাতে রুমিছা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ান জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী সাদ্দাম আহমেদ দীপ। এ সময় তার পক্ষ থেকে রুমিছা বেগমের পরিবারের জন্য চাল, তেল, চিনি, সেমাই, দুধ, মুরগি, পেঁয়াজসহ এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, রুমিছা বেগমের পাঁচ বছরের নাতির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন দীপ। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকবেন।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী সাদ্দাম আহমেদ দীপ বলেন, একজন অসহায় মানুষের কষ্টের গল্প জানার পর চুপ করে থাকা যায় না। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দান সবসময় গোপনে করাই উত্তম, তবে সমাজের অন্যদেরও এগিয়ে আসা উচিত।
তিনি আরও বলেন, শুধু রুমিছা বেগমই নন, বাগেরহাটের সকল অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সব সময় রয়েছে জেলা ছাত্রদল। যে কোনো দুর্যোগ বা মানবিক সংকটে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, রুমিছা বেগম দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য আর পারিবারিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। স্বামী হারানোর বেদনা, দ্বিতীয় সংসারের ভাঙন এবং আশ্রয়হীন অবস্থার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। বর্তমানে নাতিকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তার এই সংগ্রামী জীবন একদিকে যেমন বেদনাময়, অন্যদিকে তেমনি সমাজের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। স্থানীয়দের আশা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তা পেলে রুমিছা বেগমের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব