কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রীর অভিজ্ঞতা ছিল শিহরণ জাগানো। তাদেরই একজন খায়রুল খাঁ, যিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে খোকসা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তোলা হয়। বাসটিতে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
খায়রুল খাঁ জানান, তিনি খোকসা কাউন্টার থেকে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে বাসে ওঠেন এবং বি-২ নম্বর আসনে বসেন। তার পাশের আসনে বসা এক যুবক কিছু সময়ের জন্য নেমে গিয়ে পরে আবার বাসে ওঠেন। সেই সময় বাসটি ফেরিঘাটের পন্টুনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
হঠাৎ একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি বাসটি সামনের দিকে হেলে পড়ছে। মুহূর্তের মধ্যে আমি দরজার দিকে ছিটকে যাই। দরজাটি খোলা থাকায় সরাসরি নদীর পানিতে পড়ে যাই। সবকিছু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায়, বলেন তিনি।
পানিতে পড়ে আশপাশে আরও কয়েকজন যাত্রীকে ভাসতে দেখেন খায়রুল। পরে সাঁতরে ও ঘাটে থাকা লোকজনের সহায়তায় তারা প্রাণে বাঁচেন। আমাকে একজন টেনে তুলেছিলেন। না হলে হয়তো আমিও বাঁচতাম না, যোগ করেন তিনি।
তবে তার পাশের আসনে বসা সেই যুবকের আর কোনো খোঁজ পাননি বলে জানান খায়রুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটির প্রায় সব আসনই যাত্রীতে পূর্ণ ছিল।
বাসটির চালক আরমানই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন খায়রুল। দুর্ঘটনার সময় সুপারভাইজার ঘাটে নামা অবস্থায় ছিলেন এবং সহকারী বাসের বাইরে থাকায় তারা বেঁচে যান। পরে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), শিশু ইস্রাফিল (৩) ও আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব বলেন, বাসটির চালক আরমানই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। অন্য কেউ চালাচ্ছিল,এমন তথ্য সঠিক নয়। বেঁচে ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকেও আমরা একই তথ্য পেয়েছি।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের এই দুর্ঘটনা দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি