| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জ্বালানি তেল সংকট: দীর্ঘ লাইন, কৃষি উৎপাদন হুমকিতে

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৯, ২০২৬ ইং | ১৬:৩৮:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৩১৮৫৫২ বার পঠিত
জ্বালানি তেল সংকট: দীর্ঘ লাইন, কৃষি উৎপাদন হুমকিতে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকুপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব স্টেশনে তেল নিতে ভিড় বাড়ছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক পরিচয় বদলে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছেন এবং গুজব ছড়িয়ে তেল মজুদ করছেন। এছাড়া শহর থেকে তেল কিনে বেশি দামে গ্রামে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে জেলার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি ধান আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষক সেজে পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সংকট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঝিনাইদহ শহরের আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক মারুফ আহম্মেদ জানান, প্রকৃতপক্ষে বড় কোনো তেলের সংকট নেই। আগের তুলনায় কিছুটা কম তেল পাওয়া গেলেও সরবরাহ বেড়েছে। তবে গুজবের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, একই মোটরসাইকেল দিনে দুই থেকে তিনবার তেল নিচ্ছে, এমনকি প্রয়োজন না থাকলেও অনেকে অল্প অল্প করে তেল নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফুয়েল কার্ড বা কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

কালীগঞ্জের এসআর আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক সাহেদ কবীর জানান, আগে যেখানে দিনে ৬০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতো, এখন চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে। তার মতে, গুজবই সংকটকে বাড়িয়ে তুলছে। বাস্তবে সরবরাহ কিছুটা কম হলেও চাহিদা বৃদ্ধিই মূল সমস্যা।

ঝিনাইদহ চেম্বারের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাইকারদের জন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি তেল বিক্রির সময় মিটার যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পেট্রোল পাম্প মালিকদের সভায় সাংবাদিকরা গুজব প্রতিরোধ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল বলেন, শহরের অনেকেই কৃষক সেজে দিনের বেলায় ডিজেল সংগ্রহ করছেন। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি কার্ড চালু এবং দিনের বেলায় শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে এবং ঝিনাইদহকে বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ১১টি তেল পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গুজব নিয়ন্ত্রণ, সঠিক মনিটরিং এবং নীতিমালা প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জেলায় তেলের কৃত্রিম সংকট দ্রুতই নিরসন সম্ভব।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪