নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি ও চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, তার পরিবারের সদস্য ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ১৯০টি গাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার আদালত। এসব গাড়ি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, তার স্ত্রী নার্গিস সামসাদ, ছেলে রিদওয়ানুল আশিক নিলয়, মেয়ে চামশে জাহান নিশি এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে রয়েছে। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এনা পরিবহন ও স্টারলাইন স্পেশাল লিমিটেডের নাম উল্লেখযোগ্য।
রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এদিন দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান এসব গাড়ি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।
দুদক কর্মকর্তা বলেন, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা তাঁদের নামে থাকা গাড়ি হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য গাড়িগুলো জব্দ করা প্রয়োজন। পরে আদালত শুনানি নিয়ে গাড়িগুলো জব্দের আদেশ দেন।
খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ‘এনা’ পরিবহনের মালিক। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
দুদকের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে দৈনিক ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
দুদক আদালতকে আরও জানিয়েছে, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, তাঁর স্ত্রী নার্গিস সামদাদ, ছেলে রিদওয়ানুল আশিক ও মেয়ে চাশমে জাহানের নামে অবৈধ আয়ে কৃষিজমি, ফ্ল্যাট, প্লট ক্রয়সহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করার তথ্য পেয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের নামে বিপুল পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে ২০২১ সালের ১৪ জুন খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছিল দুদক। নোটিশে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্টার্স২৪/নাইম