রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা-এর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। টানা দুদিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি অবস্থান করায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে-খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তবে জীবিকার তাগিদে শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক ও কৃষকদের তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন সড়কে তীব্র গরমে পিচ গলে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে, বিশেষ করে পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায়। এদিকে, প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে ডিউটিরত পুলিশ সদস্য, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের শরবত ও স্যালাইন বিতরণ করতে দেখা গেছে।
দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, রোদে কাজ করা একেবারে অসম্ভব হয়ে গেছে। একটু পরপর মাথা ঘুরে যায়, তবুও কাজ না করলে সংসার চলবে না।
আরেক শ্রমিক সোহেল রানা জানান, গরমে শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে ছায়ায় বসে থাকতে হয়, এতে আয় কমে যায়।
ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরে রাস্তায় বের হওয়াই কষ্টকর। গরমে যাত্রীও কম, শরীরও সাপোর্ট করে না।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাশেদ মাহমুদ বলেন, রাস্তায় বের হলেই মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে। এমন গরমে স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন।
অন্যদিকে, তীব্র গরমের সঙ্গে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যা দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক আকাশ ইসলাম বলেন, ৩-৪ ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে, যা খুব কষ্টকর।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী এক থেকে দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম