যশোর প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় বর্গা চাষের জমি দখলে নিতে জমির মালিকের পরিবারের ১৭ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সাজানো মামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে মামলার বাদী রাধা দাস বলছেন, তিনি আসামিদের চেনেন না এবং চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এদিকে, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে চৌগাছা থানার এসআই মারুফ উল্লেখ করেছেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে’। তার বিরুদ্ধেও পাওয়া গেছে মোটা অঙ্কের ঘুষের অভিযোগ।
যশোর জেলার চৌগাছা থানার সুখপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাধা দাস বাদী হয়ে স্নেহলতা ও পরিজনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য স্নেহলতা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হয়রানি করতেই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বাদী মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। যাদের সকলেই মামলাটি মিথ্যা বলেই নিশ্চিত করেন। যাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি বিএনপি নেতা মো. মুসা মুঠোফোনে জানান, একটি সালিশি বৈঠকে রাধা দাস নিজেই স্বীকার করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা রাধা দাসকে মামলটি তুলে নিতে অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি। এ বিষয়ে রাধা দাস আমাদেরকে জানান, মাকাপুর গ্রামের সামছার মোল্লা, কাজেম আলী ও বাবুরালী তাকে দিয়ে এই মামলা করিয়েছেন। এখন মামলা তুলে নিলে ওই প্রভাবশালীরা তার ওপর অত্যাচার করবে বলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
বাদী রাধা দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার কথা স্বীকার করলেও আসামিদের নাম-পরিচয় দিতে ব্যর্থ হন। একইসাথে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এদিকে মামলায় অভিযুক্ত ১৭ জনের অধিকাংশই ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে: ইমামুল হাসান রুবেন, বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। জেসমিন আক্তার লাকি, রাজধানী ঢাকায় বসবাস করেন। স্নেহলতা পারভীন, যশোর সদর এলাকার বাসিন্দা। আলী আহম্মদ, কোনোদিন সুখপুকুরিয়া গ্রামেই যাননি। যাদের মোবাইল ট্রাকিং করলে সহজেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
তবে, আসামিদের অবস্থান দেশের বাইরে বা ভিন্ন জেলায় হওয়া সত্ত্বেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চৌগাছা থানার এসআই মারুফ অলৌকিকভাবে সবারই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছেন। এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সত্য। তবে, বাদীর নিজের স্বীকারোক্তি এবং আসামিদের অবস্থান যাচাই করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে, তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
রিপোর্টার্স২৪/সাইফ