| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শ্রীপুরের এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ১১ বছরের বেতন বকেয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৪, ২০২৬ ইং | ১৭:২৪:৩৩:অপরাহ্ন  |  ২৭১৪৩২ বার পঠিত
শ্রীপুরের এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ১১ বছরের বেতন বকেয়া

শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও দৈনিক নয়া দিগন্ত ও লোক সমাজ পত্রিকার সাংবাদিক মুন্সী মোঃ নাসিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন শিক্ষকতা জীবন শেষ করে চাকুরী থেকে অবসরে গেলেও দীর্ঘ ১১ বছরের বকেয়া বেতন ভাতাদি পাননি। ফলে গোটা শিক্ষক পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মুন্সী মোঃ নাসিরুল ইসলাম জানান, শ্রীপুর উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মিনা মাসুদ উজ্জামান কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক লোক সমাজ পত্রিকায় এবং বিভিন্ন সাংবাদিকগণ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এলজিএসপির, গুচ্ছ গ্রাম ও আদিবাসীদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রচার করেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নামে এহেন দূর্ণীতির সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় ইউএনও মিনা মাসুদ উজ্জামান সাংবাদিকদের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে অভিযোগ ব্যতিরেখে এবং ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগবিধি অবৈধ দেখিয়ে ১/১২/২০১১ তারিখে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় উক্ত পত্রটি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবগত করেন। 

কিন্ত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ওই সময় কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৯/০২/২০১২ তারিখে উক্ত শিক্ষকের এমপিও বাতিল করেন এবং বিগত ১০ বছরে চাকুরী জীবনের বেতন ভাতাদি বাবদ উত্তোলনকৃত ৫,৪০,০০০/- টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাদানের জন্য একটি পত্র ইস্যু করেন। তখন ওই শিক্ষক কোন পৈত্রিক ১৩ শতাংশ জমি বিক্রয় করে সেই অর্থ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত পত্রের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দ্বায়ের করেন।  

পিটিশনটি শুনানীর পর হাইকোর্ট ডিভিশন উক্ত পত্রের আদেশের কার্যকারিতা ৪ মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং উক্ত ইউএনওসহ সকল বিবাদীগণের বিরুদ্ধে রুল নিশি জারি করেন। ৪ মাস শেষ হওয়ায় এবং বিবাদীগণ কোন প্রকার জবাব না দেওয়ায় রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমপিও বাতিলের পত্রের কার্যকারীতা হাইকোর্ট ডিভিশন স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব বাদী হয়ে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনে একটি লিভ টু আপিল দায়ের করেন । লিভ টু আপিলটি শুনানির পর ১৩/১১/২০১৩ তারিখে আপিলটি খারিজ করে দেন।

পরিশেষে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে শুনানীর পর ২৮-০১-২০২০ তারিখে শিক্ষকের অনুকূলে রুল অ্যাবস্যুলেট করে আদেশ দেন। হাইকোর্ট ডিভিশনের এ রায়ের পেক্ষীতে মাদ্রাসা অধিদপ্তর উক্ত শিক্ষককে ২০২৩ সালে স্বপদে বহাল রেখে ১১ বছরের বকেয়া বেতন ভাতাদি না দিয়ে শুধুমাত্র ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস হতে এমপিও চালু করেন। 

২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারী উক্ত শিক্ষক চাকুরী থেকে অবসরে যান এবং উক্ত ১১ বছরের বকেয়া বেতন ভাতাদির পাওয়ার জন্য একাধিকবার অধিদপ্তরে আবেদন করেও কোন ফল পান নি তিনি। বকেয়া বেতন, ভাতাদি না পেয়ে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ পড়ুয়া দুই সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিবারের ৪ জন সদস্য বর্তমানে চরমভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সেই সাথে বকেয়া বেতন ভাতাদি পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪