স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন—সময়ে এই অর্থ ছাড় না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ১২ টাকা ১৫ পয়সা খরচ হলেও তা পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটেই সরকারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোকসান বহন করতে হচ্ছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিপুল ভর্তুকি চাহিদার পেছনে অতীতে নেওয়া কিছু ভুল পরিকল্পনা ও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বড় ভূমিকা রেখেছে। চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে অনেক কেন্দ্র বছরের বড় সময় অলস থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তাদের ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। গত ১৫ বছরে শুধুমাত্র এই ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু এই তিনটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রায় ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে। পাশাপাশি ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ প্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় আরও ৩ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত অর্থ ছাড় না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়া প্রায় নিশ্চিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই বিশাল ভর্তুকি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে অনাগ্রহী, বাস্তব পরিস্থিতি বলছে—দীর্ঘমেয়াদে মূল্য সমন্বয় ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব