স্টাফ রিপোর্টার: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে সংকটে পড়েছে বিপিসি। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে প্রায় সাত লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে। তবে সরবরাহকারীরা ‘পারফরম্যান্স গ্যারান্টি’ (পিজি) জমা না দেওয়ায় এসব জ্বালানি দ্রুত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
বিপিসি সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও অধিকাংশই এখনো পিজি জমা দেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী পিজি জমা ছাড়া চুক্তি সম্পন্ন করা যায় না, ফলে ঋণপত্র (এলসি) খোলাও সম্ভব হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত শুধু একটি প্রতিষ্ঠান ২৫ হাজার টন অকটেন সরবরাহের জন্য পিজি জমা দিয়েছে, কিন্তু তাদের সঙ্গেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। দেশে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ‘প্যানিক বায়িং’ শুরু হলে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হয় বিপিসিকে।
এদিকে, জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল ও অকটেন কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, হংকং ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি রয়েছে। তবে পিজি জটিলতায় এসব উদ্যোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা জরুরি। পিজি সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, না হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
চলতি এপ্রিল মাসে বিপিসি তিন লাখ ২৩ হাজার টন ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করেছে। ইতোমধ্যে কিছু চালান দেশে পৌঁছেছে এবং আরও কয়েকটি চালান আসার পথে রয়েছে। তবে স্পট মার্কেট থেকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি