| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

একনেক সভায় ১৭ প্রকল্প অনুমোদনের আপেক্ষায়

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৫, ২০২৬ ইং | ২৩:০৮:২৮:অপরাহ্ন  |  ১২৪২২৩ বার পঠিত
একনেক সভায় ১৭ প্রকল্প অনুমোদনের আপেক্ষায়

স্টাফ রিপোর্টার: নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসহ মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম একনেকে এই প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।

একনেক সভা সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। সভায় উপস্থাপন হতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহিত করার জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।

সোমবার একনেকে অনুমোদন পেলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়ের) প্রকল্পটি এই বছরই শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে নিরাপত্তা, পর্যটন ও আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প তিন পার্বত্য জেলার পানছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাইছড়ি ও বিলাইছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি পার্বত্য জেলাগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর সঙ্গে ৫৪০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান, স্বল্প সময়ে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা ও কৃষিজাত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

এই প্রকল্পে দুর্গম ভূখণ্ডে কাজ করার জন্য অত্যাধুনিক প্রকৌশল ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২৭২.১৩ কিলোমিটার নমনীয় পাকা রাস্তা এবং ১৪.০৩ কিলোমিটার অনমনীয় পাকা রাস্তা রয়েছে। এটি শুধু পিচঢালা রাস্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে স্কুল ও হাসপাতাল থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং পর্যটকদের বিশ্রামাগার পর্যন্ত ৩৬টি সহায়ক স্থাপনার উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

একনেকে উপস্থাপন হতে যাওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসিক নিবাস নির্মাণ; ঢাকা শহরের জরুরি পানি সরবরাহ; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সোনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সংকট নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ এবং চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অংশীদারত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন চতুর্থ পর্ব প্রকল্প।

এছাড়া আরও রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে ৮ বিভাগীয় শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন প্রকল্প ও গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইটি ট্রেইনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প।

আরও রয়েছে ‘ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প’, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈরাগীপুর (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল (চরকাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৩টি, গৃহায়ন ও গণপূর্তের ১টি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪টি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ২টি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১টি প্রকল্প রয়েছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একনেক গঠন করা হয়। ৯ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির বিকল্প সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪