স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২০২৫ সালের নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা জমা দিয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি সরেজমিনে ক্রীড়া পরিষদ ভবনে গিয়ে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
তদন্ত কমিটির সদস্য এটিএম সাইদউজ্জামান আগেই জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত ১৫ কর্মদিবসের আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী সময় শেষ হওয়ার আগেই তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দেওয়া হলো।
বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে স্বচ্ছতা, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকার ৫০টি ক্লাব ও জেলা-বিভাগের কাউন্সিলরশিপ মনোনয়ন, বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ এবং সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই তদন্ত কমিটি গঠন করে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে কমিটির প্রধান বলেন, এটি কোনো জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি বা ফৌজদারি তদন্ত নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবে হয়েছে কি না, সেটিই তারা দেখেছেন। কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ তোলা তাদের কাজ ছিল না বলেও তিনি জানান।
তবে সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিসিবির ভবিষ্যৎ নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করতে বেশ কিছু সুপারিশ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টিও রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য, উপস্থিতি ও লিখিত জবাব নিয়েও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটি বিসিবির বিভিন্ন ক্যাটাগরির কাউন্সিলর ও অভিযোগকারীদের সঙ্গেও কথা বলেছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, রিপোর্ট জমার পর কী পদক্ষেপ নেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এনএসসি চেয়ারম্যান ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসির কাছে অবহিত করা হবে। এরপর আইসিসির মতামত অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বিসিবির ভেতরে পদত্যাগ ও অস্থিরতার মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ায় বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বোর্ড পুনর্গঠন বা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি