শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই উপজেলায় ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ইতোমধ্যে মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল রাতে বিজিবি সদস্যরা দুই উপজেলায় অবস্থান নেন। ৪ এপ্রিল শনিবার থেকে তারা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত তারা নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন-পূর্ব পাঁচ দিন, নির্বাচনকালীন সময় এবং ভোটের পরবর্তী দুই দিন পর্যন্ত তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলসহ সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার চারটি বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে তারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত বিজিবি সদস্যরাও এ কাজে সহায়তা করবেন।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও জানান, শেরপুর-৩ আসনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারে না। সে কারণে এখানে বিজিবির উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ১৬ প্লাটুনে প্রায় ৩২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
এছাড়া নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে র্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করবে এবং ৪টি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে থাকবে। পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্বে থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। পাশাপাশি দুই উপজেলায় ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমও মাঠে থাকবে।
প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার আশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রসঙ্গত, জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন