ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষনের পর কিশোরীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় যুবকের বস্ত্রসহ মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার রাতে প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রেহানা বেগম বাদী হয়ে প্রতিবেশী যুবক লালচানেঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। লালচাঁন উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামের খবির মিয়ার ছেলে। ধর্ষনের শিকার প্রতিবন্ধীর কিশোরীর বাড়ি ইউনিয়নের একই গ্রামে। সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রতিবন্ধীকে জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রতিবন্ধী কিশোরী মা রেহানা বেগম স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে লতুজারপুর ইউনিয়নের জান্দীগ্রামের নিজের বাড়িতে থাকেন। ৪ এপ্রিল রাতে স্বামী ইলিয়াচ শেখকে নিয়ে তিনি পাশের চাড়ালদিয়া গ্রামের কালামের বাড়ীতে গাজীর গান শুনতে গিয়ে ছিলেন। তার প্রতিবন্ধী মেয়ে বাড়িতে একা ছিল।
গান শুনে স্বামী স্ত্রী দুজনে রাত তিনটার দিকে বাড়িতে ফিরে আসার পর দেখেন মেয়ের ঘরের দরজা খোলা রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা এগিয়ে যেতেই আমাদের উপস্থিতি টের পায় লাল চান। এসময় মেয়ের ঘরের ভীতর থেকে লালচানঁ আমাদের সামনে দিয়ে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। দুজনেই চিৎকার দিয়ে লালচাঁনকে ধাওয়া করলে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। ঘরের মেঝেতে ফেলে যাওয়া লুঙ্গি, জামা ও মোবাইল রেখে পালিয়ে যাওয়া লালচাঁনের জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তাৎক্ষনিক আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের কাছে গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা জানতে চাইলে মেয়ে জানায় , লালচাঁন প্রায়শ বাড়িতে একা পেয়ে কয়েক বার গোপনে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তার মা-বাবা থানায় আসার পর উদ্ধার হওয়া জামা কাপড় ও মোবাইল জব্দ করা হয়। ধর্ষণের অভিযোগে লালচাঁনকে আসামি করে মামলা করেন প্রতিবন্ধীর মা। সোমবার সকালে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু