আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে তেহরান কীভাবে হামলা বন্ধ করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চুক্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশটি।
এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই আমিরাতসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকাগুলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অঞ্চলে সব ধরনের শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী নিঃশর্তভাবে পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইরানের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে চুক্তির ধারাগুলোর স্পষ্টতা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের হামলার জন্য দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় এনে সব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ দায়ভার বহন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
আমিরাত আরও জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কর্মসূচি এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় তেহরানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি। ইতোমধ্যে তেহরান থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার এবং দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দুবাই-ভিত্তিক বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ইরানি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভিসা আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি হাসপাতাল, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক আলটিমেটাম এবং আমিরাতের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি