কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৭০) নামে এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে স্থানীয় ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’। এ সময় উত্তেজিত জনতা ওই পীরকে গণপিটুনি দিলে তিনি আহত হন,পুলিশ আহত শামীমকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.তৌহিদুল হাসান তুহিন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলাম গ্রামের গোলাম-এ-বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।
এর আগে, এলাকার সাধারণ উত্তেজিত জনতা লাঠি,শোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল বের করে তার দরবারে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় শামিমকে পেয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ ঘটনা স্থলে থেকে আহত শামীমকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে বেলা তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভন্ডপীর আখ্যায়িত শামীমের পুরোনো একটি ভিডিও হঠাৎ করেই গতকাল থেকে সোসাল মিডিয়ায় ব্যপক ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে এলাকার উত্তেজিত জনতা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার দরবারে দুপুরে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
এর আগে,সকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এবিষয়ে দৌলতপুর-ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, আহত শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু