আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধে দেশটিতে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সিডন শহরের কাছাকাছি একটি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। এর আগে নাবাতিয়েহ জেলায় পৃথক হামলায় আরও ১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন জরুরি সেবাকর্মী ছিলেন।
সর্বশেষ হিসাবে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২০ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৪৩৬ জন আহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা শুরু করলে পাল্টা ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায় ইসরায়েল।
এদিকে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলের দুই সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের ওই দুই সদস্য শার্পনেলের আঘাতে মাঝারি ধরনের আহত হন।
সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ করেছেন হিজবুল্লাহ সমর্থকরা। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করে স্লোগান দেন এবং সংগঠনের পতাকা ও নিহত নেতা হাসান নাসরুল্লাহর ছবি প্রদর্শন করেন। এক বিক্ষোভকারী বলেন, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায়, তারা লেবাননের প্রতিনিধিত্ব করে না।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্র আমাল মুভমেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে সমর্থকদের এই সংবেদনশীল সময়ে বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে এবং এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হলেও, তা লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইসরায়েলের হামলা কমানোর নিশ্চয়তা পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি