রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চীনের হেনান প্রদেশের শাংকুই শহরে এক নারী কর্মীর অদ্ভুত আচরণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ওই নারী কর্মস্থলে কাজের সময়ের বড় একটি অংশ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটাতেন, যা এখন নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন জানা যায়, ওই নারী দাবি করেছেন তার বেতন খুবই কম, আর সেই কারণেই তিনি কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “যত বেতন দেওয়া হচ্ছে, ততটুকুই কাজ দিচ্ছেন” অর্থাৎ কম বেতনের প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি অফিসে ঘুমিয়ে সময় কাটান।
ঘটনা আরও জটিল হয় তখন, যখন তিনি তার বসের ডেস্ক থেকে একটি চকলেট খেয়ে ফেলেন। জানা যায়, তার বস রক্তে শর্করার স্বল্পতা (গ্লুকোপেনিয়া) সমস্যায় ভুগছিলেন এবং সময়মতো চিনি না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ঘটনায় বস ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন এবং ঘটনাটিকে গুরুতর অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে ওই নারী জানিয়েছেন, তিনি চাকরি ছাড়বেন না এবং বরং কম বেতনের কারণে কাজের মান এমনই হয়—এটি বোঝাতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের আর্থিক অসন্তোষ ও কাজের চাপ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ নেটিজেনই বলছেন, কর্মঘণ্টার মধ্যে দীর্ঘ সময় ঘুমানো কোনোভাবেই পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। অনেকেই তার আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও অদায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ নিয়েছেন।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, অফিসে এমন অনিয়মিত আচরণ শুধু পেশাদারিত্বের পরিপন্থী নয়, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
এ ঘটনা নিয়ে এখন চীনে কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ও শ্রম অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম