| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেচে-গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার দেড় বছর পর চার্জশিট

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ইং | ১৬:৩৪:৪৯:অপরাহ্ন  |  ২৭২৬৮৩ বার পঠিত
নেচে-গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার দেড় বছর পর চার্জশিট

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন দুই নম্বর গেট এলাকায় নেচে-গেয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেড় বছর পর অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। ছিনতাইকারী সন্দেহে ‘মব’ তৈরি করে শাহাদাত হোসেন নামের ওই যুবককে মারধরের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় এক কিশোরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী (৪৩), আনিসুর রহমান (২০), মেহেদী হাসান (২৭) ও মো. মাজেদ (২২)।

১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানা পুলিশ চট্টগ্রাম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়।

এতে বলা হয়, ঘটনার সময় স্টিলের পাইপে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় শাহাদাতকে ঘিরে গান-বাজনার মধ্যেই মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মারা গেলে তার লাশ অটোরিকশায় করে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নালার পাশে ফেলে রাখা হয়।

নিহত শাহাদাত হোসেন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরের কোতোয়ালী থানাধীন বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে বসবাস করতেন এবং ফলমণ্ডির একটি দোকানে কাজ করতেন। 

অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে একটি ছিনতাই মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট নগরের পাঁচলাইশে প্রবর্তক মোড় এলাকা থেকে নালার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে তার বাবা মো. হারুন লাশ শনাক্ত করেন। পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

লাশ উদ্ধারের প্রায় এক মাস পর ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ গান গাইছে ও বাঁশি বাজাচ্ছে, আর তাদের মাঝখানে হাত বাঁধা এক যুবককে মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার চারদিনের মধ্যে পুলিশ ফরহাদ, আনিসুর ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই কিশোর আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫-২০ জন মিলে শাহাদাতকে মারধর করে এবং সেও এতে অংশ নেয়।

অভিযোগপত্রে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী খিচুড়ি বিক্রেতা মীর নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিল। ১৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে শাহাদাতকে বেঁধে মারধর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী জানান, ভিডিও ও জবানবন্দির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে- ছিনতাইকারী সন্দেহে তাকে নেচে-গেয়ে মারধর করা হয় এবং পরে লাশ অন্যত্র ফেলে রাখা হয়। সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামে আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের আসামি করা যায়নি। ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

নিহতের বাবা মো. হারুন বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। আমি দিনমজুর, আমার ছেলেও দিনমজুর ছিল। কী অপরাধে তাকে এভাবে মারা হলো, সেটা আজও জানতে পারিনি’।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪