আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বন্দর ঘিরে ঘোষিত নৌ অবরোধ চ্যালেঞ্জ করলে দেশটির যেকোনো নৌযান ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের সময় ইরানের অধিকাংশ নৌবাহিনী ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে অবশিষ্ট “ফাস্ট অ্যাটাক” নৌযানগুলো যদি মার্কিন অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সেগুলো “তাৎক্ষণিকভাবে নির্মূল” করা হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এটি ইরানের বন্দর থেকে বের হওয়া বা সেখানে প্রবেশ করতে চাওয়া সব জাহাজের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও অবরোধ কার্যকর হয়েছে,এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা জাহাজ আটকানোর খবর পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই অবরোধ ঘোষণা করা হয়। ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় রবিবার এ সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।
এর আগে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যাতে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে জোর প্রচেষ্টা চলছে।
তবে আন্তর্জাতিক মহলে এ অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক প্রণালী দিয়ে নিরীহ জাহাজ চলাচলের অধিকার বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি উভয় পক্ষকে সমুদ্রপথকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরান ইতোমধ্যেই নিজেদের মতে “শত্রু” জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। কেবল চীনের মতো মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন পরিকল্পিত অবরোধ নিয়ে চীনও উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ এটির নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থে জরুরি।
ন্যাটো জোটের ভেতরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবলেস এই অবরোধকে “অর্থহীন” বলে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও জানিয়েছেন, ব্রিটেন এতে অংশ নেবে না। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, একটি “প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক মিশন” গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে কার্যকর হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে এ অবরোধকে ‘দস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে—তাদের বন্দর হুমকির মুখে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কার্যকর হলে তা কার্যত যুদ্ধ পুনরায় শুরুর সমতুল্য হতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি