রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুনের পচন রোধ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় উৎপাদনশীল জেলাগুলোতে মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি আধুনিক সংরক্ষণ প্রকল্প প্রণয়ন করেছে, যা বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ শুধুমাত্র সঠিক সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। তবে নতুন এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুন ৮ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে অপচয়ের হার ২ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, অপচয় কমানো গেলে বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমে যাবে।
রাজবাড়ী জেলাকে পেঁয়াজ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে পাংশা উপজেলায় ৫০৫টি, কালুখালীতে ২৬০টি এবং বালিয়াকান্দিতে ৪৯৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে আগামী মৌসুমেই রাজবাড়ীর তিন উপজেলায় আরও ৮০০ থেকে ১০০০টি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদে আলোচনায় সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ বলেন, সংরক্ষণ সমস্যার কারণে দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। তিনি মডেল স্টোরেজ ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন, যা কৃষিমন্ত্রীও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেন।
মন্ত্রী আশ্বাস দেন, কৃষকদের দোরগোড়ায় প্রযুক্তিগত সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম