রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বড় আকারের উড়োজাহাজ অবতরণের সুবিধার্থে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন থেকে প্রয়োজনীয় সনদও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অপারেশনাল কার্যক্রম, টেস্টিং ও কমিশনিং চলমান রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।
এদিকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করছে সংস্থাটি।
তবে উড়োজাহাজের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পাশাপাশি পুরোনোগুলো পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টালপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২০ ও ২০২১ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম