বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা-বেনাপোল অঞ্চলের দিগন্তবিস্তৃত মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। বসন্তের দখিনা বাতাসে দুলছে কচি ধানের শিষ, আর সেই দৃশ্য ঘিরে জেগেছে কৃষকদের বাম্পার ফলনের আশা।
চৈত্রের তপ্ত দুপুরেও মাঠজুড়ে সবুজ ধানক্ষেতের সতেজ ঘ্রাণ আর ঢেউ খেলানো দৃশ্য জানান দিচ্ছে—এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হতে পারে। বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাওয়ায় কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সেচ নিয়ে তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চাহিদামতো ডিজেল পাওয়ায় বোরো ক্ষেতে নিয়মিত সেচ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, “এবার ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। বিদ্যুৎচালিত পাম্প ও ডিজেলচালিত মেশিন—দুটোর মাধ্যমেই সেচ দিয়েছি। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি না থাকায় চাষাবাদে কোনো সমস্যা হয়নি।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টরের চেয়েও বেশি। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ২৩ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (শার্শা জোনাল অফিস) দেবাশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, সরকারের উদ্যোগে সংকটের মধ্যেও কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে সেচ নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “চাহিদামতো বিদ্যুৎ ও ডিজেল পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে হয়েছে। এ বছর বোরো আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রি ধান-৫০, ব্রি ধান-৬৩ ও রেড মিনিকেট জাতের চাষ বেশি হয়েছে।”
সব মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতায় শার্শা-বেনাপোল অঞ্চলে বোরো মৌসুম নিয়ে আশাবাদী কৃষকরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন