আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে সমুদ্রপথে পেতে রাখা মাইন অপসারণে বড় ধরনের অভিযান চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, ইরানের কারণে ব্যাহত হওয়া জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। এই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মাইন পরিষ্কারে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে মানবনির্ভর পদ্ধতির পাশাপাশি এখন ড্রোন, পানির নিচে চলাচলকারী রোবট এবং দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব যন্ত্র সেনাদের ঝুঁকি কমিয়ে দূর থেকে মাইন শনাক্ত করতে পারে।
আধুনিক ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ থেকে পরিচালিত আধা-স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ও সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করা হয়। এরপর দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে মাইন ধ্বংস করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন রয়েছে:
সমুদ্রতলে স্থির থাকা মাইন
পানির নিচে ভাসমান বা বাঁধা মাইন
ভাসমান ড্রিফট মাইন
জাহাজের গায়ে লাগানো ‘লিমপেট’ মাইন
এসব মাইন শনাক্ত করা কঠিন এবং অপসারণ প্রক্রিয়াও জটিল। ফলে পুরো অভিযান ধাপে ধাপে পরিচালনা করতে হয়।সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পুরো প্রণালী পরিষ্কার করতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি থাকায় অভিযান আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এ কারণে মাইন অপসারণকারী জাহাজ ও টিমকে রক্ষায় অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও আকাশপথে নজরদারি ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে।
নতুন প্রজন্মের সোনার প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে দ্রুত মাইন শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে মাইন খোঁজা, শনাক্ত করা এবং ধ্বংস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও সমুদ্রপথে মাইন অপসারণ এখনো অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি সামরিক কাজ, যা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি