রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বহনকারী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংস্থাটির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ট্রলারটি দক্ষিণ বাংলাদেশের টেকনাফ এলাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। গত ৯ এপ্রিল প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে এটি ডুবে যায়।
আইওএম-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আবুনাজেলা বলেন, উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় মানুষ যখন এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হয়, তখন তাদের জীবনের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে,এই ঘটনা তারই করুণ উদাহরণ। তিনি বলেন, কাউকে যেন জীবন বাঁচাতে এমন বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি সংকট এবং টেকসই সমাধানের অভাবকে আবারও সামনে এনেছে। শরণার্থী শিবিরে দুর্বিষহ জীবনযাপন, মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, জীবিকার সংকট, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অনিরাপদ পরিস্থিতি এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা—এসব কারণেই অনেকে বাধ্য হয়ে সমুদ্রপথে পাড়ি দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে।
আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে যাত্রা করেন, যাদের মধ্যে ৮৯০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান। একই সময়ে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, সাগরে বিপদাপন্ন মানুষের উদ্ধার একটি মানবিক দায়িত্ব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুসরণ করে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তহবিল সংকট থাকা সত্ত্বেও আইওএম ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা এবং মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা অর্থায়ন অব্যাহত রাখে এবং মিয়ানমারে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়, যাতে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি