| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজধানীতে উধাও ২০ শতাংশ বাস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ইং | ২০:৪১:১৬:অপরাহ্ন  |  ৩৩১ বার পঠিত
রাজধানীতে উধাও ২০ শতাংশ বাস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকার সড়কে প্রায় ২০ শতাংশ বাস কম চলাচল করছে। এতে নগরবাসীর যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অনেক যাত্রী বাসে উঠতে পারছেন না।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিভিন্ন গন্তব্যগামী বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সেখানে পর্যাপ্ত গণপরিবহন পাওয়া যায়নি। যে ক’টি বাস মোড়ে পৌঁছায়, সেগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকায় অধিকাংশ যাত্রী বাসে উঠতে ব্যর্থ হন।

শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বক্সসংলগ্ন স্থানে অপেক্ষমাণ তাসলিমা স্বর্ণা নামে এক যাত্রী বলেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তিনি একটি বাসে উঠতে পারেননি। পরবর্তী বাসের জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান তিনি। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর সড়কে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে একই লাইনে বিভিন্ন কোম্পানির ৫ থেকে ৭টি বাস একসঙ্গে চলাচল করত। বর্তমানে সেখানে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩টি বাস দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কোনো মোড়ে মাত্র একটি বাস অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে, যা যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগমুখী লেনে সীমিতসংখ্যক—মাত্র ৮ থেকে ১০টি বাস চলাচল করছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের উপস্থিতি থাকলেও সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ ফাঁকা দেখা যায়।

এ ধরনের পরিস্থিতি বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে গণপরিবহন খাতে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে ডিজেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার কারণে অনেক বাস সড়কে নামতে পারছে না। ফলে প্রায় ২০ শতাংশ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিবহন মালিক ও চালকদের ভাষ্যমতে, জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে চালকদের প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

গুলিস্তান থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট রুটে চলাচলকারী শুভযাত্রা পরিবহনের চালক বিল্লাল হোসেন বলেন, জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে একটি অতিরিক্ত ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হতো, যা বর্তমানে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণেই সড়কে বাসের সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করছেন।

পোস্তগোলা-মালিবাগ-মধ্যবাড্ডা-দিয়াবাড়ি রুটে চলাচলকারী রাইদা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মকবুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, পূর্বে একবারে ৫ হাজার টাকার জ্বালানি সংগ্রহ করা যেত, যা দিয়ে তিনটি ট্রিপ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। বর্তমানে একই পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে একাধিক ফুয়েল স্টেশনে যেতে হচ্ছে এবং কোনো স্টেশনই ৩ হাজার বা ৩ হাজার ৫০০ টাকার বেশি জ্বালানি সরবরাহ করছে না। ফলে একটি বাস দিয়ে এখন মাত্র দুটি ট্রিপ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম জানান, রাজধানী ও শহরতলীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার বাস চলাচল করে থাকে। বর্তমানে ডিজেল সংকটের কারণে প্রায় ২০ শতাংশ বাস কম চলাচল করছে, ফলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, গণপরিবহন হিসেবে বাসগুলোকে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের মধ্যে ‘প্যানিক বাইং’-এর প্রবণতা থাকলেও বাসের ক্ষেত্রে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এ কারণে গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া না হলে যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ট্রিপ শেষে চালকদের যদি জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে যানজটপূর্ণ এই নগরীতে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সাময়িক সমাধান হিসেবে আধা-সরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অব্যবহৃত বাস সড়কে নামানোর পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, এতে সাময়িকভাবে গণপরিবহন সংকট লাঘব হতে পারে এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ব্যবস্থার উন্নয়নে এখন থেকেই পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, কেবল ইলেকট্রিক বাস বা যানবাহন সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়; এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সরকার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৩০ শতাংশ যানবাহন বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে হাই ভোল্টেজ সরঞ্জাম, বিশেষায়িত ওয়ার্কশপ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং চার্জিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে গণপরিবহনের ওপর চাপ বেড়েছে। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। তাই এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত বাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪