| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গ্রীষ্মের তাপদাহে প্রকৃতি যখন রুক্ষ ঠিক তখন প্রাণ জুড়াতে হাজির কৃষ্ণচূড়া

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ইং | ১৫:১৭:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৭৭০ বার পঠিত
গ্রীষ্মের তাপদাহে প্রকৃতি যখন রুক্ষ ঠিক তখন প্রাণ জুড়াতে হাজির কৃষ্ণচূড়া

ফরিদপুর প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে প্রকৃতি যখন রুক্ষ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই যেন এক ঝলক প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয় রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ফুল। এই ফুলের অপরুপ দৃশ্য যে কারও চোখে ও মনে এনে দিতে পারে শিল্পের দ্যোতনা। 

সরেজমিনে ফরিদপুর জেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফুঁটেছে। সবুজের বুকে শুধুই লালের রাজত্ব। দূর থেকে মনে হয় ময়ূর তার রাঙা পেখম মেলে ধরেছে প্রকৃতির মাঝে। লক্ষ্য করা গেছে, ফরিদপুর খুলনা মহাসড়কের মাজকান্দি- মধুখালি  সড়কসহ জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শাহ জাফর কলেজ সহ বিভিন্ন বসতবাড়ির পাশে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহ। কৃষ্ণচূড়া ফুলে ঠাসা গাছের ডালগুলো নিয়ে নুয়ে পড়েছে। এ যেন এক অপরুপ মনমুগ্ধকর ভালবাসার অনুভুতির ছোঁয়া। আর এসব কৃষ্ণচূড়া ফুলের নিজস্ব সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ফুলপ্রিয় পথিক। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়ার জৌলুস।

কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এ বৃক্ষ যেন এখন বাঙালির ঐতিহ্যের একটা অংশ হয়ে গেছে সবার অলক্ষে। এদেশে এসে পরিচিত হয়েছে নতুন নামে। অনেকেই মনে করেন, শ্রীকৃষ্ণের নাম থেকে এ গাছ ও ফুলের নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া। এর সবচেয়ে বড় খ্যাতি হচ্ছে মোহনীয় রক্তিম আভা। সবুজের বুক চিরে বের হয়ে আসা লাল ফুল এতটাই মোহনীয় যে, পথিচারীরাও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

প্রকৃতির শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষের উচ্চতা তেমন একটা বেশি হয় না। সর্বোচ্চ ১২ মিটার পর্যন্ত উপরে উঠলেও তার শাখা-প্রশাখা বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত থাকে। কৃষ্ণচূড়া পুরো গ্রীষ্ম ও বর্ষায় প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখে। বিভিন্ন দেশে এই ফুল বিভিন্ন সময়ে ফুটলেও বাংলাদেশে ফুটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। এই পুরো সময়টাতেই কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখে উজ্জ্বল লাল আভায়।

ফরিদপুর জেলার  বৃক্ষপ্রেমী সুমন রাফির মতে, সাধারণত মার্চের শেষ দিকে এই ফুল ফোটে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এ ফুল থাকে। বাহারি এই ফুলের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য প্রকৃতিতে এনেছে উচ্ছলতা। কবি-সাহিত্যিকের লেখা বা শিল্পীর গানে কৃষ্ণচূড়ার কথা উঠে এসেছে নানাভাবে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন, ‘বসুধা নিজ কুন্তলে/পরেছিল কুতূহলে/এ উজ্জ্বল মণি,/রাগে তারে গালি দিয়া,/লয়েছি আমি কাড়িয়া—/মোর কৃষ্ণ-চূড়া কেনে পরিবে ধরণী?’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের পঙ্‌ক্তি ‘গন্ধে উদাস হাওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী/কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানের চরণ ‘রেশমি চুড়ির তালে কৃষ্ণচূড়ার ডালে/পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা ডেকে ওঠে পাপিয়া।’

সন্দীপন চক্রবর্ত্তী নামে এক শিক্ষার্থী জানান,এই সময় গ্রাম অঞ্চলে মাঝে মাঝে শুধু চোখে পড়ছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের লাল আভা। প্রকৃতি যেন ফিরে পেয়েছে নতুন রূপ।তিনি আরো,বলেন,  কৃষ্ণচূড়া অবশ্যই প্রকৃতির শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ। তবে এর অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। যা আমাদের অনেকেরই অজানা। এছাড়া গ্রীষ্মের খরতাপে ছায়াদান করে কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪