| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী অভয়নগরের নিপা রানী

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ইং | ১৭:০৬:৫৩:অপরাহ্ন  |  ৬১৪ বার পঠিত
মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী অভয়নগরের নিপা রানী

অভয়নগর (যশোর)প্রতিনিধি: সকল সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার  সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের সিদ্ধিপাশা গ্রামের নিপা রানী দাস। 

তবে তার এই সফলতার পথ মসৃণ ছিল না। জীবিকার প্রয়োজনে মাগুরা ড্রিম মাশরুম সেন্টারে চাকরি করতেন তিনি। সেই চাকরিরত  অবস্থায় ২০১৫ সালে খুব অল্প পরিসরে পরীক্ষা মূলক ভাবে মাশরুম উৎপাদন শুরু করেন । এরপর ২০২২ সালে সিদ্ধিপাশায় বাবার আর্থিক সহযোগিতায় নিজে ল্যাব তৈরি করার পাশাপাশি ২টি কালচার হাউজ তৈরির মাধ্যমে শুরু হয় তার পথ চলা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে তার ২ টি শেডে মাশরুম চাষ হচ্ছে । সেখানে ওয়েস্টার মাশরুম, ঋষি মাসরুম ও মিল্কি মাশরুম চাষ হচ্ছে। মাশরুম চাষের জন্য প্রথমে একটি বড় পলিথিনের মধ্যে ধান গাছের খড়কে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখা হয়। তারপর এর মধ্যে মাশরুম বীজ রাখার ২৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে পরিপক্ব মাশরুম পাওয়া যায়। পলিথিন ব্যাগের ছিদ্র দিয়ে বীজের  অঙ্কুরোদগম হয়ে ধবধবে সাদা বর্ণের মাশরুম বের হয়ে আসে। মাশরুমগুলো যখন পরিপক্ব হয়ে ওঠে তখন সেগুলো কেটে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

নিপার খামাররে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ কেজি মাশরুম উৎপাদিত হয়। যা বিক্রি করে মাসিক অন্তত ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এই আয় তাকে এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। তার পুরো বাড়িই মাশরুম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খামারে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও তিনি মাদার কালচার, মাসরুমের বীজ উৎপাদন ও বিক্রি করেন। 

কঠোর পরিশ্রম আর তীব্র ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অভয়নগর উপজেলার একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসাবে। মাশরুম চাষ ও উৎপাদনে পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিয়ে থাকেন তিনি। অনেকে মনে করেন, নিপা মাশরুম চাষে এখন অভয়নগরের আদর্শ মডেল চাষি।

এখন তিনি একজন সফল পরিবার প্রধান। পুরো সংসার তার আয়ের উপর নির্ভর করে এখন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিতা নিপার রয়েছে অত্যন্ত মেধাবী এক ছেলে ও এক মেয়ে । 

পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে তার মায়ের সহযোগিতা পান সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও তার রয়েছে ২ জন নারী সহযোগী। নিপা বলেন, আমার সপ্ন মাশরুম নিয়ে সাধারণ মানুষদের সাথে কাজ করে আমার মতো আরও নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা। 

অভয়নগর  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, নিপার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য বেকার নারী ও যুবকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে স্বল্প খরচে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় মাশরুম চাষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। আমারা তাকে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সহ প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার ব্যবসার পরিধি বড় করার জন্য ঋণ গ্রহণেও সাহায্য করেছি।ভবিষ্যতে তাকে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে । 

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪