| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ছয় ধাপ পেছালো বাংলাদেশ

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ইং | ২১:০৩:১৮:অপরাহ্ন  |  ৩৪৪ বার পঠিত
মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ছয় ধাপ পেছালো বাংলাদেশ

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : প্যারিস-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ (আরএসএফ) কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে (ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স) ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। ২০২৫ সালের সূচকে ভারত ১৫১তম স্থানে ছিল, যা অনুযায়ী এক বছরে দেশের অবস্থান ছয় ধাপ নিচে নেমে গেছে।বৃহস্পতিবার এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স-২০২৬ অনুযায়ী, গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের গড় স্কোর এতটা কম আগে কখনো হয়নি। সূচকের ইতিহাসে এই প্রথমবার বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক এবং সুইডেন। অন্যদিকে তালিকার একেবারে শেষে অবস্থান করছে সৌদি আরব, ইরান, চীন, উত্তর কোরিয়া এবং ইরিত্রিয়া।

আরএসএফ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিচ্ছিন্ন কিছু উন্নতি বাদ দিলে বিশ্বের অনেক অংশেই সাংবাদিকতার পরিবেশের উদ্বেগজনক অবনতি ঘটেছে। ১৮০টির মধ্যে ১০০টি দেশ ও অঞ্চলেই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার স্কোর হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে ‘আইনি নির্দেশক’ বা লিগ্যাল ইন্ডিকেটর সবচেয়ে বেশি নিচে নেমেছে, যা বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এক স্পষ্ট প্রবণতা। আমেরিকার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাত ধাপ নিচে নেমে গেছে এবং লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশ সহিংসতা ও দমনের আবর্তে আরও গভীরভাবে তলিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রায় সবাই এই সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। পাকিস্তান ১৫৩তম, ভুটান ১৫০তম, নেপাল ৮৭তম, শ্রীলঙ্কা ১৩৪তম এবং বাংলাদেশ ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে। তবে চীন রয়েছে ১৭৮তম স্থানে। ১৫৭তম অবস্থানে থাকা ভারত ফিলিস্তিনেরও এক ধাপ নিচে রয়েছে, যেখানে ইসরায়েল গত দুই বছর ধরে গণহত্যা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভারত ১৫৯ তম স্থানে ছিল। ভারতে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার এই সংকটের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে আরএসএফ।

সংস্থাটির মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি, সংবাদ মাধ্যমের মালিকানা গুটিকতক হাতে সীমাবদ্ধ হওয়া এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে’ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরম সংকটে। ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংবাদ মাধ্যম এবং বড় শিল্পপতিদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে আরএসএফ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিলায়েন্স গ্রুপের মুকেশ আম্বানি ৭০টিরও বেশি মিডিয়া হাউসের মালিক। পাশাপাশি ২০২২ সালের শেষে গৌতম আদানি কর্তৃক এনডিটিভি অধিগ্রহণের ঘটনাটি মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে বহুত্ববাদের অবসানের সংকেত দেয়। আরএসএফ ‘গোদি মিডিয়া’র উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছে যে, চাপ এবং প্রভাবের মাধ্যমে ভারতের সংবাদ মাধ্যমের বহুত্ববাদী কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন না এবং তিনি কেবল সেই সব সাংবাদিক বা ইউটিউবারদের সাক্ষাৎকার দেন যারা তাঁর প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিকদের বিজেপির আইটি সেলের ট্রল বা হয়রানির শিকার হতে হয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, মানহানি বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো ঔপনিবেশিক আমলের আইনগুলো সংবাদ মাধ্যমকে দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী আইনেরও যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। যেহেতু সংবাদ মাধ্যমগুলোর আয়ের প্রধান উৎস সরকারি বিজ্ঞাপন, তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো কন্টেন্ট সেন্সর করার জন্য সংবাদ মাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। মোদী সরকারের অধীনে বিজ্ঞাপনের পেছনে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল ব্যয় করা হয়েছে। নিউজ রুমগুলোতে বৈচিত্র্যের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরএসএফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতা পেশার উচ্চপদগুলো মূলত উচ্চবর্ণের হিন্দু পুরুষদের দখলে, যা খবরের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, টক শো-গুলোতে নারী অতিথিদের উপস্থিতি ১৫ শতাংশের কম। হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ এখন সংবাদ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে, যা সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠস্বরকে সীমিত করে দিচ্ছে।

হিন্দি চ্যানেলগুলোর একটি বড় অংশ ধর্মীয় সংবাদ প্রচার করে এবং কখনও কখনও সরাসরি মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ায়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও চিত্রটি ভয়াবহ। বছরে গড়ে ২ থেকে ৩ জন সাংবাদিক পেশাগত কারণে হত্যার শিকার হওয়ায় ভারতকে সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী সাংবাদিকদের অনলাইন হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক হামলা এবং যথেচ্ছ গ্রেফতারের শিকার হতে হয়। হিন্দুত্ববাদী সমর্থকরা প্রায়ই সমালোচকদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণ্য প্রচার চালানো হয়। কাশ্মীর এবং পরিবেশ সংক্রান্ত খবর পরিবেশনকারী সাংবাদিকদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, যেখানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর হাতে হয়রানি এবং বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক থাকার ঘটনা ঘটছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪