ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর থানার এক কনস্টেবলকে অপহরণ করে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ লোহাগাড়া এলাকার মো. সোহেল রানা (৩২), ঠাকুরগাঁও পৌরসভার গড়েয়া (চোঙ্গাখাতা) এলাকার মো. বিপ্লব ইসলাম (২৭), গোবিন্দনগর (জলেশ্বরীতলা) এলাকার মো. নাজমুল হোসেন ওরফে রাব্বি (২২), জগন্নাথপুর হাজির মোড় এলাকার মো. সাকিব খান (২৬) এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুড়েগ্রাম এলাকার মো. নাইম আহাম্মেদ (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর থানায় কর্মরত কনস্টেবল মো. আজিজুল ইসলাম সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহ ও মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় গেলে একটি প্রাইভেট কার ও অটোরিকশায় আসা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। পরে তাঁকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, পরে তাঁকে শহরের জেলা স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে মহাসড়কসংলগ্ন একটি মোটরসাইকেলের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিম্মি করে এক লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা তাঁকে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দেন। পরে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে তিনি ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারধর ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু