ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চীনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
কয়েক দিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাহাড় ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যাঞ্চলের হুনান প্রদেশে ভারী বর্ষণে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১১ জন। সেখানে বন্যা ও দুর্যোগে প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে ফুলে ওঠা একটি নদী পার হওয়ার সময় একটি ট্রাক পানিতে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাটি ঘটলেও মঙ্গলবার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া পার্শ্ববর্তী গুইঝৌ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে চারজন নিহত হয়েছেন। সেখানে আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশেও বন্যার ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। সেখানে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন চারজন। প্রবল বর্ষণে কয়েকটি স্থাপনা ধসে পড়েছে। পাশাপাশি কিছু গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি তৎপরতা শুরু করেছে চীনা সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য ১২ কোটি ইউয়ান জরুরি ত্রাণ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গুইঝৌ প্রদেশের জন্য অতিরিক্ত আরও ৩ কোটি ইউয়ান সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হুনান, গুইঝৌ ও হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে পৃথিবীতে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম