ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রচারিত ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, এই মুহূর্তে আমরা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছি। আমার নির্দেশ হলো এটিকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা।
এ সময় উপস্থিত একজন পুরো গাজা দখলের আহ্বান জানালে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। আগে ৭০ শতাংশ। তবে পুরো গাজা দখলের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরাইল।
এর আগে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে যে মানচিত্র দেয়, তাতে দেখা যায় ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরেও অতিরিক্ত ১১ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা। ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী যুদ্ধবিরতিতে এই সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর ফলে গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা আগে ছিল ৫৩ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে আরও এলাকা দখল করা হলে গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে আরও সীমিত এলাকায় মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করতে হবে। বর্তমানে গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাতেই সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
যদিও গত বছর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবুও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। আল জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো গাদাগাদি করে তাঁবু, স্কুল ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার বহু এলাকায় এখনও বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও গুলির ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে ‘বোর্ড অব পিস ফর গাজা’র উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ সতর্ক করে বলেন, গাজার বর্তমান সংকট দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী রূপ নিতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৭৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম