| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর কোনো উপায় থাকবে না: ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ১১:১৪:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৯ বার পঠিত
চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর কোনো উপায় থাকবে না: ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তার (নেতানিয়াহুর) কোনো বিকল্প থাকবে না। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা থেকে সরে আসছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়।

হামলার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাবেন। কারণ ওয়াশিংটন এখনো তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

ইরানের হামলা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কী হয়, তা দেখা যাবে। কিন্তু এই হামলাগুলো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

তবে আলোচনার পথ ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “চুক্তি না হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে।”

ট্রাম্পের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ দেশটির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমার মতে, এই অবরোধ দেশটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরান-ইসরাইল বৈরিতা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতাকে ঘিরে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪