স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। সেই যাত্রার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আজ এই মহান সংসদে আমাদের প্রথম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতেই বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং নির্যাতিত নারীসহ আত্মত্যাগী সব মানুষকে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মদানকারী সব শহীদ এবং গুম, খুন, হামলা, মামলা ও গুলিবর্ষণের শিকার আহত যোদ্ধাদের স্মরণ করছি, যাদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় জীবনে গণতন্ত্র, অধিকার ও নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।’
চলতি অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি