স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে উসমান ডেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। ৩২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ফরাসি ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের অন্যতম দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেম্বেলে। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটে নরওয়ের গোলরক্ষক ম্যাথিয়াস সেলভিককে পরাস্ত করেন তিনি। গোলটির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের, যিনি আক্রমণ তৈরির সময় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধার মুখেও খেলা চালিয়ে যান।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলের মাত্র ৭২ সেকেন্ড পরই ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয় নরওয়ে। ২১তম মিনিটে বাম দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে বল পেয়ে অস্কার আসগার্ড দারুণ দক্ষতায় ফরাসি ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানোকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালে জড়ান। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইনিয়াঁ গোলটি ঠেকানোর কোনো সুযোগ পাননি।
তবে নরওয়ের সেই প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ টিকতে দেননি ডেম্বেলে। ৩২তম মিনিটে আবারও ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ফ্রেডরিক বিয়োরকানকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। মাত্র ২৫ মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন ফরাসি এই উইঙ্গার।
যদিও এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম হ্যাটট্রিক নয়। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্ট মাত্র ২০ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তবুও ডেম্বেলের এই কীর্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম হ্যাটট্রিক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
এদিকে গোল হজম করলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নরওয়ে। ২৯তম মিনিটে আসগার্ডের পাসে আন্দ্রেয়াস স্কেলদরুপ সুযোগ তৈরি করেন এবং কয়েক মিনিট পর স্ট্যান্ড লারসেনকে বিপজ্জনক অবস্থানে পাঠানোর চেষ্টাও করেন। তবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের গতি ও ধার নরওয়ের রক্ষণকে চাপে রাখলেও স্কোরলাইন আরও বড় হয়নি।